ফটিকছড়ি উত্তর পরিচিতি
ফটিকছড়ি উত্তর চট্টগ্রাম জেলার একটি নতুন উপজেলা। ২০২৬ সালের জুলাই মাসে ফটিকছড়ি উপজেলা বিভক্ত হয়ে ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার সৃষ্টি হয়। এটি চট্টগ্রাম জেলার উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত একটি সম্ভাবনাময় জনপদ।
চট্টগ্রাম জেলার উত্তরাঞ্চলের নতুন উপজেলা।
ফটিকছড়ি উত্তর চট্টগ্রাম জেলার একটি নতুন উপজেলা। ২০২৬ সালের জুলাই মাসে ফটিকছড়ি উপজেলা বিভক্ত হয়ে ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার সৃষ্টি হয়। এটি চট্টগ্রাম জেলার উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত একটি সম্ভাবনাময় জনপদ।
ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার উত্তরে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য, দক্ষিণে ফটিকছড়ি (দক্ষিণ) উপজেলা, পূর্বে খাগড়াছড়ি জেলা এবং পশ্চিমে মীরসরাই উপজেলা অবস্থিত। হালদা নদী এই অঞ্চলের প্রধান নদী।
ফটিকছড়ি নামের উৎপত্তি নিয়ে নানা মত রয়েছে। জনশ্রুতি অনুযায়ী, এই অঞ্চলে একসময় ফটিক (স্ফটিক) পাথর পাওয়া যেত বলে এর নাম ফটিকছড়ি হয়েছে।
এই অঞ্চলের অর্থনীতি মূলত কৃষিনির্ভর। ধান, সবজি ও ফল চাষ প্রধান। এছাড়া চা বাগান, রাবার বাগান এবং মৎস্য চাষও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলায় ৬টি ইউনিয়ন রয়েছে — বাগানবাজার, দাঁতমারা, নারায়ণহাট, ভূজপুর, হারুয়ালছড়ি ও সুয়াবিল। সদর দপ্তর ভূজপুরে, থানা ভূজপুর থানা, সংসদীয় আসন ২৭৯ চট্টগ্রাম-২। ২০২৬ সালের ১ জুলাই নিকার সভায় উপজেলা গঠনের সিদ্ধান্ত হয় এবং ৮ জুলাই গেজেট প্রকাশিত হয়।
ফটিকছড়ি উত্তরে বহু প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা ও কলেজ রয়েছে। এই সাইটে ৩৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তালিকা দেওয়া আছে — EIIN, প্রধান শিক্ষক ও যোগাযোগসহ।
এছাড়া হালদা নদী এই অঞ্চলের প্রধান নদী।
নিচের ইতিহাস ২০২৬ সালের জুলাইয়ে বিভক্তির আগের সমগ্র ফটিকছড়ি উপজেলার — ফটিকছড়ি উত্তর সেই ইতিহাসেরই অংশ।
ফটিক অর্থ লক্ষ ও ছটি অর্থ আড়াড়িয়া বদী। ফটিকছড়ি উপজেলার প্রতিষ্ঠানকে ফটিকছড়ি থান লাগত একটি লক্ষ অর্থ আছে। নৈসর্গিক সৌন্দর্যের জন্য এই থানাটি সাধাতো বান্দী থেকে উপলব্ধ হয় ফটিক নদীর সাথে মিলিত হয়েছে। এই থান ও ফটিকছড়ি উপজেলার নামকরণ করা হয়েছে।
ফটিকছড়ি উপজেলার মোট আয়তন ৭৭৩.৫৪ বর্গ কিলোমিটার (২,৯৮,৯৬৮ একর)। এরই প্রতি আয়তনের দিক থেকে চট্টগ্রাম জেলার সবচেয়ে বড় উপজেলা। চট্টগ্রাম জেলা সদর থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার উত্তরে ফটিকছড়ি উপজেলার অবস্থান।
১৯১৮ সালে ফটিকছড়ি থানার সৃষ্টি হয়। ১৯৮৩ সালে থানাকে উপজেলায় রূপান্তর করা হয়। ২০০১ সালে ফটিকছড়ি থানাকে ভাগ করে নতুন ভূজপুর থানার উদ্ভবন হয়। ফটিকছড়ি উপজেলায় ২টি থানা, ২টি পৌরসভা, ১৮টি ইউনিয়ন, ৯৬টি মৌজা ও প্রায় ২০৬টি গ্রাম আছে।
ফটিকছড়ি উপজেলায় ৬টি কলেজ, ৬টি স্কুল এন্ড কলেজ, ৩৩টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ১১৪টি বালিকা বিদ্যালয় ও ৬টি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় আছে। আলিয়া ও দাখিল মাদ্রাসা ৩০টি এবং মহিলা মাদ্রাসা ৪টি সহ মোট ৩৪টি মাদ্রাসা রয়েছে। কামিল, ফাজিল, কওমি, এতেদায়ী ও কারিগরি মাদ্রাসা আছে প্রায় ৩৩০টি। সর্বমোট প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে ২২২টি এবং কিন্ডারগার্টেন আছে প্রায় ৩৩টি।
ফটিকছড়ি উপজেলার দক্ষিণে সীতাকুণ্ড উপজেলা ও মীরসরাই উপজেলা অবস্থিত। পূর্বে রাউজান উপজেলা, রাঙ্গামাটি জেলার কাউখালী উপজেলা ও রাঙ্গামাটি জেলার মানিকছড়ি উপজেলা। পশ্চিমে সীতাকুণ্ড উপজেলা এবং উত্তরে রামগড় উপজেলা ও ভারতের ত্রিপুরা প্রদেশ অবস্থিত।
১ নং বাগানবাজার ইউনিয়ন ২ নং দাঁতমারা ইউনিয়ন ৩ নং নারায়ণহাট ইউনিয়ন ৪ নং ভূজপুর ইউনিয়ন ৫ নং হারুয়ালছড়ি ইউনিয়ন ৬ নং পাইন্দং ইউনিয়ন ৭ নং কাঞ্চননগর ইউনিয়ন ৮ নং রাঙ্গামাটিয়া ইউনিয়ন (বিলুপ্ত) ৯ নং ধুরুং ইউনিয়ন (বিলুপ্ত) ১০ নং সুন্দরপুর ইউনিয়ন ১১ নং সুয়াবিল ইউনিয়ন ১২ নং দৌলতপুর ইউনিয়ন (বিলুপ্ত) ১৩ নং লেলাং ইউনিয়ন ১৪ নং নানুপুর ইউনিয়ন ১৫ নং রোসাংগিরী ইউনিয়ন ১৬ নং বখতপুর ইউনিয়ন ১৭ নং জাফতনগর ইউনিয়ন ১৮ নং ধর্মপুর ইউনিয়ন ১৯ নং সমিতিরহাট ইউনিয়ন ২০ নং আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়ন ২১ নং খিরাম ইউনিয়ন
ফটিকছড়ি পৌরসভা (রোসাংগিরী ও ধুরুং ইউনিয়নের সম্পূর্ণ অংশ নিয়ে গঠিত হয়েছে ফটিকছড়ি পৌরসভা। নাজিরহাট পৌরসভা (দৌলতপুর ইউনিয়নের সম্পূর্ণ ও সুয়াবিল ইউনিয়নের আংশিক নিয়ে নাজিরহাট পৌরসভা গঠন করা হয়)।
ফটিকছড়ির আয়ের প্রধানতম উৎস হচ্ছে কৃষি। এখানে প্রধানতম ধান ও রাবার উৎপাদন অত্যন্ত আয়ের প্রধান উৎস। এখান কৃষি ফসল ধান, ডাল, মরিচ, ভেজা, বিভিন্ন ফলমূল ও চা প্রধান বনানী চাষের মধ্যে আছে চা এবং রাবার। বাংলাসদেশের ১৬৮টি চা বাগানের মধ্যে ১৮টি চা বাগানের অবস্থান ফটিকছড়ি উপজেলায়। ফটিকছড়িতে ৬টি রাবার বাগান আছে। এছাড়া মহামায়া সুইসগেট বিশাল আয়তনের বানাটি (মিরসরা রাবার বাগান) রয়েছে। এ ফটিকছড়িতে গড়ে আয়তন প্রায় সাড়ে চার হাজার একর।
১৯৭১ সালের মার্চ ১ম তারিখে দিনাজপুরী, জেনারেল জিয়াউর রহমান, জানাল কমান্ডার সিদ্দিক আলী মজুমদার এবং স্বাধীন মুক্তিযোদ্ধারা রামগড়ে মুক্তিযুদ্ধ ক্যাম্প স্থাপন করেন। দুদিন নেওয়ার জন্য চট্টগ্রামে মুক্তিযোদ্ধারা তাদের থেকে ভলেন্টিয়ার হয়ে এবং দুদিন নিয়ে ফিরত একত্রে হয়। এই কারণে ফটিকছড়িতে চট্টগ্রামের মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠন গড়ে হয়। নারুয়া গ্রামের অদ্য মোহরের স্কুলের মাঠে ছিল পাকবাহিনী নির্মমতা। মুক্তিযোদ্ধা ফটিকছড়ির প্রায় ৩৩০০ মুক্তিযোদ্ধা অংশগ্রহণ করেন। যুদ্ধাহত ৪টি (জেলা ৩ বাগান, সাহজাহানপুর দরবার শরীফ, শীতলছড়া, রাঙ্গাবাজার)।
দুই পাহাড়ের মাঝে অবস্থিত ফটিকছড়ি ভূ-প্রাকৃতিক দিক দিয়ে নৈসর্গিক সৌন্দর্যে পরিপূর্ণ। পশ্চিম প্রান্তে সীতাকুণ্ড পাহাড়ী রেঞ্জ, যার বিস্তৃতি ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য হতে শুরু হয়ে চট্টগ্রাম শহর পর্যন্ত। এই পাহাড়ের অপর পাড়ে সীতাকুণ্ড উপজেলা এবং মীরসরাই উপজেলা। পূর্ব প্রান্তে পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়। ফটিকছড়ির প্রধান নদী হালদা, হালদা নদী উপজেলার মধ্যভাগ চিরে উত্তর দিক হতে দক্ষিণে প্রবাহিত হয়েছে। অন্যান্য নদী এবং খালের মধ্যে রয়েছে সীতাকুণ্ড পাহাড়ী রেঞ্জ হতে উৎপন্ন হওয়া ফটিকছড়ি খাল, হারুয়ালছড়ি খাল। পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড় থেকে উৎপন্ন মানিকছড়ি, ধুরুং খাল এবং সর্তা খাল।
সুয়াবিল বারমাসিয়া গণপাঠাগার, অন্বেষণ পাঠাগার, হারুয়ালছড়ি গণপাঠাগার, সুয়াবিল গণপাঠাগার, সমপ্রযুগ পাঠাগার, নারায়ণহাট গণপাঠাগার, সুয়াবিল ইসলামী গণপাঠাগার, সবুজ ছায়া আদর্শ সংঘ পাঠাগার।
মাসিক ফটিকছড়ি, ফটিকছড়ি সংবাদ, জীবনবাতি, দাওয়াতুল হক, ফটিকছড়ির খবর, দৈনিক ফটিকছড়ি খবর, গ্রীন ফটিকছড়ি, ত্রৈমাসিক শব্দমালা, ফটিকছড়ি নিউজ।